অনির্বাণ কবিতা । জীবনানন্দ দাশ । সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৩

অনির্বাণ কবিতা টি সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি জীবনানন্দ-দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ । যা কবির মৃত্যুর অনেক বছর পর ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। গোপালচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘সুদর্শনা’ কাব্যগ্রন্থ সংকলিত হয় । এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৪০ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

 

এই পথ দিয়ে । জীবনানন্দ দাশ । সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৩

 

অনির্বাণ কবিতা

কবিতা: অনির্বাণ
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: সুদর্শনা

 

অনির্বাণ কবিতা । জীবনানন্দ দাশ । সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৩

 

সর্বদাই এরকম নয়, তবু
মাঝে মাঝে মনে হয় কোন দূর
উত্তরসাগরে কোনো ঢেউ
নেই;
তুমি আর আমি ছাড়া কেউ
সেখানে ঢোকার পথ হারিয়ে ফেলেছে।

নেই
নীলকণ্ঠ পাখিদের ডানা-গুঞ্জরণ
ভালোবেসে আমাদের পৃথিবীর এই রৌদ্র;
কলকাতার আকাশে চৈত্রের ভোরে যেই
নীলিমা হঠাৎ এসে দ্যাখা দেয় মিলাবার আগে
এইখানে সে-আকাশ নেই;
রাতে নক্ষত্রেরা সে-রকম
আলোর গুঁড়ির মতো অন্ধকার অন্তহীন নয়।

 

অনির্বাণ কবিতা । জীবনানন্দ দাশ । সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৩

 

তবুও আকাশ আছে:
অনেক দূরের থেকে নির্নিমেষ হ’য়ে
নক্ষত্র দু’-একজন চেয়ে থাকে;

চেয়ে থাকে আমাদের দিকে-
যেন টের পায়
পৃথিবীর কাছে আমাদের
সব কথা- সব কথা বলা
ডাভেন্ট্রিডোমেই টাসে স্টেফানিতে
যুদ্ধ শান্তি বিরতি নিয়তির ফাঁদে চিরদিন
বেধে গিয়ে ব্যহত রণনে
শব্দের অপরিমেয় অচল বালির-
মরুভূমি সৃষ্টি ক’রে গেছে;
-কোনো কথা কোনো গান
কাউকেই বলে নাই;
কোন গান
পাখিরাও গায় নাই। তাই
এই পাখিহীন নীলিমাবিহীন শাদা স্তব্ধতার দেশে
তুমি আর আমি দুই বিভিন্ন রাত্রির দিক থেকে
যাত্রা ক’রে উত্তরের সাগরের দীপ্তির ভিতরে
এখন মিশেছি।

 

অনির্বাণ কবিতা । জীবনানন্দ দাশ । সুদর্শনা কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৩

 

এখন বাতাসে শব্দ নেই- তবু
শুধু বাতাসের শব্দ হয়
বাতাসের মতো সময়ের।
কোনো রৌদ্র নেই, তবু আছে
কোনো পাখি নেই, তবু রৌদ্রে সারাদিন
হংসের আলোর কণ্ঠ র’য়ে গেছে,
কোন রাণী নেই- তবু হংসীর আশার কণ্ঠ
এইখানে সাগরের রৌদ্রে সারাদিন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment