অনেক ভূখণ্ড থেকে ফিরে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৪তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

অনেক ভূখণ্ড থেকে ফিরে
কবিতা: অনেক ভূখণ্ড থেকে ফিরে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

অনেক ভূখণ্ড থেকে ফিরে এসে এক দিন ভোরে
কোথাও পথের মাঝে মনে হল চলেছে শরীর
সময় কি আমার এ-হৃদয়কে নিয়ে খেলা করে
নচেৎ প্রতিটি পথ নিজের রেখার চেয়ে স্থির
হয়ে থেকে সারা-দিন বিচক্ষণ ভাবে
মিশে যায় অন্য এক পথের রেখায়!
কেন যায়?- মনে হয় একটি আবছা সরলতা
দেখা গেলে দেখা যেত অতীব নির্মল স্পষ্টতায়
তবু সেই করুণাকে দূর থেকে দেখি আমি শুধু
সময়ের কুয়াশায় আটকায়ে গিয়ে
পথের সীমান্তে গিয়ে অনুভব করি, দিওতিমা
আমি তার সূচনায় রয়েছি দাঁড়িয়ে
সকল যথার্থ পথ অতীব নীরব হয়ে থেকে
আমার বালকোচিত দুর্দশাকে ছুঁয়ে
অন্ধকার অনভিজ্ঞতাকে এক প্রদীপের রূপ দিতে চায়
কাহারও মহানুভব অবজ্ঞার ফুঁয়ে
নিভে যেত যদি সেই আলো- তবে অন্ধকারে আমি
পেতাম অপর দিক- অন্য এক অকৃত্রিম নরকের পথ
কেউ নেই- তবু জানি সময়ের ঘেরাটোপ খুলে
প্রণয়িনী সর্বদাই আপনার মতন মহৎ
হতে চায়- সকালবেলার এক হ্রদের ভিতরে স্পষ্ট জল
হুবহু ছবির মতো নগরীর মিনারকে নিয়ে
ছড়ায়ে রয়েছে- তবু- মিনারে চিলের- তীব্র- রোল
আমারই আত্মার মতো জলের ছবিতে নেমে গিয়ে।
কোথাও দক্ষিণ বাম চিহ্ন শব্দ সুর
নীলিমা পৃথিবী নেই তার
দুইটি পাখির ফাঁকে ব্রহ্মার মোহিনী সময়
আকৃতি দিয়েছ ব’লে, দিওতিমা, পেয়েছি আকার।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷