একটি ইহুদি যুবা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১২তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

একটি ইহুদি যুবা
কবিতা: একটি ইহুদি যুবা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

একটি ইহুদি যুবা- হয়তো সে জন্মেছিল খৃস্টের আগে
ঈশা’র মৃত্যুর পরে হয়তো সে আজও
বেঁচে আছে- নিমীল ভোরের বেলা জেগে উঠে আমি
আড়ষ্ট শরীরে তবু শয্যার উপরে
শুয়ে থাকি;- ক্রমে-ক্রমে সব ইয়ানা’র কথা মনে আসে
সমুদ্রের সমতল থেকে ঢের উঁচু এক নীরব প্রদেশে
নারীর সিঁথির মতো সরু এক নদী
চ’লে গেছে- উড়ুনি চুলের মতো গোধূম ফসল দুই দিকে
সেই ধূর্ত নদীটির
নিকটে সরাইখানা
সেখানে টালির ছাদ সময়ের মুখে প’ড়ে থেকে
অধিক বিবর্ণ হতে ভয় পায়
সেখানে দেয়ালে শুধু দু’টো দ্বার- কেউ যদি ঢুকে পড়ে তবে
পুনরায় বার হয়ে চ’লে যাবে ব’লে।
ঘরের ভিতরে কেউ নেই ব’লে একটি মানুষ
রয়ে গেছে সর্বদাই- এখুনি আবার তবু সমুদ্রের দিকে
চ’লে যাবে।
ঘরের ভিতরে ক্ষুদ্র পরিধির গোল জানালাকে
সমস্ত রাত্রি ভ’রে ঘুমাবার ভার দিয়ে

তবু আমি ভিজে বাতাসের ভরে উদ্ভিদের মতো ঘ্রাণে ঘরের ভিতরে
ঢুকি যদি
তা হলে কোথাও কেউ নেই ব’লে- তবু-
সর্বদা একটি লোক চোখ চেয়ে আছে:
কী ক’রে দুয়ারে ঢুকে অপর দুয়ার দিয়ে আমি
বার হয়ে চ’লে যাই।
যারা এই পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে সর্বদাই
সবের জন্মের আগে যারা
মাতৃযোনির থেকে জন্ম লাভ করেছিল চুপে
সবের মৃত্যুর পরে তবুও বিষয় নিয়ে বেঁচে র’বে ব’লে
তাহাদেরও সকলের মৃত্যু হয়ে গেল- তবু- এক জন ছাড়া।