এখন আমার ঘোড়া নিয়ে যাই কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

এখন আমার ঘোড়া নিয়ে যাই
কবিতা: এখন আমার ঘোড়া নিয়ে যাই
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এখন আমার ঘোড়া নিয়ে যাই- আকাশরেখার দিকে ধীরে
পিছনে পৃথিবী- জানি- ন্যূব্জ হয়ে প’ড়ে আছে বাষ্পের তিমিরে
যদি আমি মনে ভাবি কোনও এক উপতারকার মতো তার গতি
সৌর পরিসরে মূল্য বিতরণ করিতেছে- আমাদের অজ্ঞাত যাহা
তা হলে কখনও এই গোধূলির ঘোরে আমি পাব অব্যাহতি?
এইখানে বাঁকা নদী চ’লে গেছে- চেয়ে দেখি- পৃথিবীর দিকে
যদি আমি মনে ভাবি আমারই মতন সে-ও কোনও এক আবিষ্ট প্রতীকে
অভিগামী;- হয়তো-বা প্রতিবিম্ব আমারই আত্মার কামনার
তা হলে ঘোড়া’কে আমি মশা’র কামড়ে ঠেলে ফেলে
ঘুরন্ত বিঘোর মাকু পেয়ে যাব পরিদের দর্জিপাড়া’র
বহু দিন বাস করা হয়ে গেছে ধর্মভীরু সূর্যের নিচে
তার পর- তবু দেখি- বোলতা’র পাখনায় আলোকের প্রতিভা ঘিরেছে
দিঘির তরঙ্গ থেকে উঠে এসে ধৃষ্ট এক মুকুরের মতো
ফেলেছে নিজের আলো- তবুও মেদের ‘পরে ভাস্বর সূর্যই ঠিক-
রাসভের চামড়াকে করেছে জুতায় পরিণত।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷