কাঠুরিয়ার হাতে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

কাঠুরিয়ার হাতে
কবিতা: কাঠুরিয়ার হাতে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কাঠুরিয়ার হাতে নিজেদের সমর্পণ ক’রে
অরণ্যের তরু সব প্রভাতের নদীর কিনারে
দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ;
আমরা দাঁড়ায়ে আছি
জলের ভিতরে আমাদের খানিকটা প্রতিবাদ বিম্বিতেছে
কর্তিত দেহের ছবি ক্রমে-ক্রমে ফুটিতেছে তবু
এক দিন হস্তমুণ্ডহীন আমাদের অনুত্তীর্ণ দায়িত্বহীনতা
নিশীথের নক্ষত্রের নিচে- অবশেষে
আরও স্পষ্ট বিদূষক হবে
আমাদের জীবনের এই পরিণতিহীন অন্ধকার প্রবাদকে টিটকারি দিয়ে
শূন্যতায় স্তব্ধ হয়ে র’বে
মরণের আগে আমাদের মৃত্যু হয়ে গেল
হলুদ পাতারে দিল না আসিতে
পাখিদের ভালোবাসা- আশা- দাম্পত্যের নীড়
আমাদের স্পর্শে এসে অসুস্থতা পেল- রোধ- মৃত্যু-
প্রভাতের জলের তরঙ্গ আপনারে প্ররোচিত মনে ক’রে
আমাদের শুষ্ক শিকড়ের দিকে চেয়ে
পৃথিবীর জলের জননী হতে বাধা পাবে না ক’ তবু
সকল গভীর ক্ষত প্রশমিত ক’রে, সব উপদংশ
স্নিগ্ধ ক’রে;
আবার সে শিশুশাখারূপে আপনারে প্রকাশিবে-
সূর্যের সোনালি ডিম্বে,- নক্ষত্রের;
অতিকায় মৃত কাঁকড়ার মতো
আমাদের ঘনসন্নিবিষ্ট শুষ্ক শিকড়ের রাশি
মৃত্তিকায় মিশে যেতে-যেতে ভৌতিক বাতাসের মতো শান্ত দূর শব্দে ব’লে যায়
‘প্রতিভার নতুন প্রসার নিয়ে
তোমাদের মৃতোপম চোখের উপরে
নিশীথের বায়ু স্ফীত হয়ে উঠিতেছে’

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷