কার্তিকের ভোরবেলা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৪তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

কার্তিকের ভোরবেলা
কবিতা: কার্তিকের ভোরবেলা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কার্তিকের ভোরবেলা ধানের গুচ্ছের ছড়ি ছুঁয়ে যেতে-যেতে
সকাল দুপুরবেলা হয়ে গেল- এখানে সময়
এমনই স্তব্ধতা হতে অধিক নীরব আরও হয়।
একটি চাতক-পাখি হলুদ ধানের থেকে নীলিমায় উড়ে
মিশে গেছে পুনরায়- এখুনি আবার দেখা দিয়ে যাবে ক্ষেতে।
একাকী সে আকাশ ও বিবর্ণ মাঠের
মাঝ-পথে অফুরন্ত রৌদ্রের অবাধ তিমিরে
একটি নারীর মতো আলো-হাতে উঠে গেছে ধীরে
প্রয়োজন নেই ব’লে তার দিকে পিছ ফিরে আমি
চেতনা ফুরায়ে দিয়ে পিছনে না ফিরে
হতে গিয়ে তবু নীল আকাশের কোলে আশাশীল
একটি চাতক-পাখি উড়ে গেল- দেখে-দেখে- কী রকম ভাবে
অপার ক্ষান্তি নীড়ে কোথাও রয়েছে মনে পড়ে।
রাত্রি-দিনে দুপুরের নয়া ধান, রোদের ভিতরে
অন্বেষণ ক’রে নিলে জরিপের ফিতে
কেবলই জড়ায়ে যায় সোনালি জড়িতে
অসম্ভব রৌদ্রের, সাঙ্কো’র ঘোড়ার-
পাখিটি ঘনায়ে এসে তবুও উজাতে ভুল করে।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন ৷ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷