কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬ । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬ কবিতাটি আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থের রচিত। আলো পৃথিবী কবি জীবনানন্দ দাশ এর কাব্যগ্রন্থ। যা তার মৃত্যুর অনেক পর ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তার অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলো নিয়ে যেসব কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় এটি তার মধ্যে অন্যতম। এতে মোট ৬২টি কবিতা রয়েছে।

 

কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬ । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬

কবিতা: কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: আলো পৃথিবী

 

কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬ । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

পাহাড়, আকাশ, জল অনন্ত প্রান্তরঃ
সৃজনের কী ভীষণ উৎস থেকে জেগে
কেমন নীরব হয়ে রয়েছে আবেগ;
যেন বজ্রবাতাসের ঝড়
ছবির ভিতরে স্থির- ছবির ভিতরে আরো স্থির।

কোথাও উজ্জ্বল সূর্য আসে;
জ্যোতিষ্কেরা জ্ব’লে ওঠে সপ্রতিভ রাতে
আদি ধাতু অনাদির ধাতুর আঘাতে
নারীশিক্ষা হত যদি পুরুষের পাশেঃ
আকাশ প্রান্তর নীল পাহাড়ের মত
নক্ষত্র সূর্যের মত বিশ্ব-অন্তর্লীন
উজ্জ্বল শান্তির মত আমাদের রাত্রি আর দিন
হবে নাকি ব্রহ্মান্ডের লীন কারুকার্যে পরিণত।

 

কার্তিক অঘ্রান: ১৯৪৬ । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন।

তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫৪ সালে ভুমেন্দ্র গুহ তার ট্রাঙ্ক ভর্তি প্রায় ১৪টি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার সমাহার হাজার খানেক কবিতা সংগ্রহ করেন। এবং ১৯৯৪ সালে কবির কন্যা মঞ্জূষা দাশ থেকে এবং কবির ভাইপো অমিতানন্দ থেকে কবির লিখা বেশ কিছু পুরাতন খাতা সংগ্রহ করেন।

এগুলো থেকে ভুমেন্দ্র গুহ ১৯৯৪ সালের পর ধীরে ধীরে প্রায় ১৪টি পাণ্ডুলিপির খাতা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারনের কাছে স্বীকৃত।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment