চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো

কবিতা: চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

চোখ দু’টো ক্রোনোমিটারের মতো সময়কে অন্বেষণ ক’রে
চ’লে যায়- আমাদের ক্রোনোমিটারের মতো নয় তবু
(যেখানে অতীত এসে দেখা দেয় বর্তমান মানুষের কাছে
ভবিষ্যতের রেখা স্বাভাবিক প্রান্তরের মতো তার চোখে প’ড়ে আছে)
(পৃথিবীর ক্রোনোমিটারের মতো ঠিক নয়)

সেই লোক ভেবে গেছে ঢের দিন: মানুষের সাধারণ কাজের ভিতরে
যদিও বিশ্রাম আছে- কপালে কানের পাশে একটি কী দু’টো সাদা চুল
অন্তরঙ্গতার মতো চুপে ঈষৎ বাতাস এলে নড়ে
তার পর মৃত্যু আছে

তবুও বিষয় কেউ পেতে চায় এই পৃথিবীতে
কেউ চায় বিষয়ের ভিতরে রূপক
কেউ চায় রূপককে নিরাবিল
অনেক আশ্চর্য লোক- এই সব প্রার্থনার ভীষণ মিলন, গরমিল
অনুভব না ক’রেই শুয়ে থাকে অন্ধকারে প্রেয়সীকে নিয়ে
অথবা মৃত্যুর নদীর পারে নেউলের মতন দাঁড়িয়ে

এই সব যাচ্ঞা ও অজ্ঞাতসার তবুও ভীষণ নিস্তব্ধতা।

যেই মৃত্যু, যেই প্রেম, যেই রমণীর প্রয়োজন
নিওলিথ যুগ থেকে আজ তক পৃথিবীর চিন্তা, হাড়, মাটির মতন
ভ্রমণ করেছি আমি তার খোঁজে- দেখে তবু দেখি নি কোথাও
জলের ভিতরে নদী সর্বদাই বারো তেরো বাঁও
ডুবে যায়- পিপুলের ডাল থেকে উড়ে যায় ধবল সারস
ছবির মতন সব নিরুত্তর; বধির ছবির হাতযশ

 

চোখ দুটো ক্রোনোমিটারের মতো । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment