ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ । জীবনানন্দ দাশ

ছায়া আবছায়া কবি জীবনানন্দ দাশ এর কাব্যগ্রন্থ যা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো ছায়া আবছায়া। এই গ্রন্থে মোট ৬১ টি সতন্ত্র কবিতা রয়েছে কিন্তু কোনো কবিতার শিরোনাম নেই। তাই কবিতাগুলোকে তাদের প্রথম লাইন অনুসারে শিরোনাম দেওয়া হলো।

 

ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ

 

ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ । জীবনানন্দ দাশ

 

ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ

 

ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থের কবিতাসূচিঃ

 

বেকার
অবিনাশ দত্ত
এ এক পুরোনো বাড়ি
নতুন কবিতা
এই দুপুরের বেলা
এই মাঠে ক্ষেতে
যখন ট্রামের ঘণ্টা
যখন ছিলাম ছোট
হাজার বর্ষ আগে
মৃত্যুকে ভালো লাগে
কলকাতার ময়দানে
রোমান্স মরে গেছে
এইখানে ঢের মরা বন
প্রান্তরের পথে
শীতল মুচি
প্রেসিডেন্সি কলেজ
এমনই তো দেখা যেত
ধীরে ধীরে ক্রমে
রাত্রিচর বিড়াল
তুমি আমি
মাছির মতন
আমি
যেখানে মৃতরা
মা
চিঠি
প্রাইভেট টিউটর
থার্ড ক্লাস ডেকে
ছোট পাখি
হাড়ের চিরুনি
কখনও আলোর থেকে
অনেক ঘুমের মাঝে
সে এক সন্তান লয়ে
জমি উপড়ায়ে ফেলে
এক দিন ঘুম ভেঙে
ভালোবাসা এক দিন আসে
হে প্রেমিক
আজ এই অন্ধকারে
এইখানে চারিদিক থেকে
এই এক পৃথিবী
নিরাশ হোয়ো না
দুপুর গড়িয়ে গেল
এখানে মানুষগুলো
ঘুমিয়ে রয়েছ তুমি
এখন গাছের পাতা
মৃত দম্পতি
তোমাকে দিয়েছি ব্যথা
বিকেল নেভার আগে
মৃত্যুর নদীর পারে
প্রজাপতি কবিতা
আকাশে নক্ষত্র আছে
এখানে ঘাসের পরে
এইখানে প্রান্তরের পরে
এইখানে মাঝরাতে
শীতের বিকেল বেলা
সমুদ্রের পারে ব’সে
সমুদ্রের পারে এই
তখন বিকেল গাঢ় হয়
এখন গভীর রাতে
এই নিম্ন পৃথিবীতে
সে কোন মহিলাদের দেখি
বাইরের ডাকে আমি আজ

 

 

ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ

 

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।

মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন ৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷

বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ অন্যদিকে, অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment