জর্নাল ১৩৪২ কবিতাটি মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ । যা কবির মৃত্যুর অনেক বছর পর ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৩৮ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

জর্নাল ১৩৪২
কবিতা: জর্নাল ১৩৪২
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

হিজল-ঝাউয়ের ডাল জ্বলছে সূর্যের আলোড়নে,
মেঘের পৃথিবী থেকে ছুটি পেয়ে বয়স্কা রূপসী,
আশ্বিন এসেছে নীলকণ্ঠের পালকে শাড়ি ঘষে,
পদ্মের স্তনে- আর ব্যথাতুর মনে।
মাছি রোদ শেফালি মিষ্টি ধান পায়রার ভিড়
সঙ্গে তার- পশ্চিমে মেঘের পিছে সূর্যের হৃদয়
নদী কাশ চোখা বাঁশপাতা থেকে রৌদ্রের ক্ষয়
করলে শাপলার বনে জেগে ওঠে জ্যোৎস্নার শরীর।
চারি দিকে বাড়ি সাঁকো গাছে নীড় উলুঘাসে ঢেউ;
নদীটির চলাফেরা মানবীর মতো;
মনে হয় সৃষ্টির ভেতরে প্রথমত
এ-সব জিনিস ছাড়া ছিল না ক’ কেউ।
এইখানে চিরদিন রয়ে যাবে সব।
নীলচে ডানার কাক আশ্বিনকে কাছে ডেকে আনে;
তিন-চার মাইল খেতে হরিণের প্রাণে
এসেছে অপার ব্যাপ্তির অনুভব।
শূন্য চারি দিকে নীল আকাশের মতো হয়ে আসে;
ক্রমেই গভীর নীল ব’লে মনে হয়:
অন্ধ ইলেকট্রন- তবু নিশ্চয়তার পরিচয়
নেই তার সনাতন নির্জন প্রকাশে।
[উষা । শারদীয় ১৩৬১]

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷