ঢেউয়ে ঢেউয়ে কবিতাটি মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ । যা কবির মৃত্যুর অনেক বছর পর ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৩৮ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

ঢেউয়ে ঢেউয়ে
কবিতা: ঢেউয়ে ঢেউয়ে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

ঢেউয়ে-ঢেউয়ে হালভাঙা জাহাজের সাক্ষ্য রেখে দিয়ে-
কুয়াশায় ঘণ্টা নেড়ে কম্পাস তৈরি করে- চাকা
ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে কল ভেঙে গড়ে গড়ে ভেঙে গড়ে
বেনামি নদীকে নাম দান ক’রে নাম ভুলে গিয়ে
মানুষের বিবরণে কুয়াশায় অন্দকারে চলেছে মানুষ;
মৃত মানুষের বোঝা, বিধানের হৃদয়ের অবিরল পচনশীলতা,
মড়কের ইদুরের অন্তহীন খাঁচা নিয়ে চলেছে- চলেছে-
এ-সবের থেকে তবু উৎসারিত অনুভূতি জ্ঞান
প্রেম পেয়ে এইবার সব কুজ্ঝটিকা
শেষ ক’রে মহাসাগরের ভোরে আলো
আরো আলো পাওয়া যাবে?- আরো গাঢ় সম্মিলন?
নদীর ও নীল সমুদ্রের আরো বড় রেখা?
বলয়ের পরে আরো বলয় রয়েছে;
সেখানে অন্তিম শূন্য আছে;
শতকের মহাশতকের
উজ্জ্বলতা আছে।
শ্মশানের স্তব্ধতাও ভালো, তবু উৎস আলো শান্তি প্রীতি সব
ভেতরের- ওপরের- সূর্যের লক্ষ্যে প্রয়াণের।
[উত্তরসূরি। কার্তিক-পৌষ ১৩৬৮]

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন ৷ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷