থার্ড ক্লাস ডেকে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থের রচিত। যা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো ছায়া আবছায়া। এই গ্রন্থে মোট ৬১ টি সতন্ত্র কবিতা রয়েছে ।

থার্ড ক্লাস ডেকে
কবিতা: থার্ড ক্লাস ডেকে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: ছায়া আবছায়া

স্টিমারের থার্ড ক্লাস ডেক থেকে এই সব বোঝা যায়:
জীবনের বিমর্ষতা ”আজও তুমি থার্ড ক্লাস?”
সিন্ধুর তিমিরের মতো জাহাজের প্রাণ
পদ্মার উপরে;- যেন দূর-তিমির আহ্বান
শুনেছে সে;- আমিও শুনেছি যেন- আর কেউ শুনে নি কি?
কম্বলের গভীর আরাম- ঘুম- অন্ধকার চারিদিকে
শুধু এক পাখি
কেঁদে ওঠে; বাটলার গলা ছিঁড়ে ফেলেছে তাহার
তার পর শুধু হিম- শুধু ঘুম- শুধু অন্ধকার
অন্ধকার বাটলার- আর তার পাখি
জাহাজ তিমির মতো- আমিও আমার মতো না-কি?
যেন: তিমি- অন্ধকার- বাটলার- কিম্বা তার পাখি!

জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷ বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ অন্যদিকে, অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন।
আরও দেখুনঃ