প্রেমিক ১৩৪৫-৪৬ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১১তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

প্রেমিক ১৩৪৫-৪৬
কবিতা: প্রেমিক ১৩৪৫-৪৬
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এমন সময় এক মানুষকে হাতে পাওয়া গেল
যাকে ধ’রে পৃথিবীর বাজারের কাছে
ভবঘুরে ভিড়দের বলা যায়: তোমাদের চেয়ে
অধিক আবহমান ধাতু বেঁচে আছে।
সারা-দিন কবি যার মুখের ভিতরে
সাধারণ দার্শনিক যার প্রণিধানে
নিজেদের, পৃথিবীকে, ব্যাপ্ত পৃথিবীর
বাস্তবতাকে আরও ভালো ক’রে জানে।
এ না হলে ঘড়ির ঘণ্টার শব্দে
ভোরবেলা জেগে উঠে রোজ
ঈষৎ বিবর্ণ সব মুখোশকে দেখা যায় শুধু
মেজে-ঘ’ষে মানুষের মতন সহজ।
অথবা আত্মস্থ সব লোকগুলো ব’সে আছে আপন আসনে
যত দিন টিকে আছে পৃথিবীর থাম
তাহাদের কারু কোনও সংশয় নেই
পেতে পারে নিজ-নিজ পিতার প্রণাম।
অথবা অসংখ্য কোটি লোক যেন কেঁদে যায়
কান পেতে মনে হয় অগণন লোক যেন হাসে
সমান্তরাল দু’টো বিচ্ছেদের রেখা
কেবলই মিলিত হয় মুহূর্তের জাদুর বাতাসে।
ধর্মভীরু প্রাণ তার বাঁধানো দাঁতের জ্যোতি নিয়ে
কাপুরুষ লোক তার ইস্পাতের কারখানা খুলে
অবিশ্বাসী অনর্গল হুন্ডি চালিয়ে
ঘেমে গেল;- কেবল প্রেমিক তার হৃদয়ের ভুলে
মাথায় প্রকাণ্ড টাক গজাতেছে প্রাঞ্জলতায়
চোখে তার নিরাময় সুড়ঙ্গের মতন শূন্যতা
প্রতিভাত হয়ে ওঠে অফুরন্ত আলোকের মধ্যাহ্ন তিমিরে
মাইক্রোফোনে বেজে ওঠে কংগ্রেসাদি ক্যাম্পের কথা।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷