যদিও দিন কবিতা টি বেলা অবেলা কালবেলা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎকবি জীবনানন্দ দাশের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ। কবির মৃত্যুর পর তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা অশোকানন্দ দাশ ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ) এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে আবিস্কৃত লেখাগুলো থেকে এ বইয়ের পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়। আর কবির মৃত্যুর সাত বছর পর তা ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ নামে ১৯৬১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৩৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

যদিও দিন
কবিতা: যদিও দিন
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: বেলা অবেলা কালবেলা

যদিও দিন কেবলি নতুন গল্পবিশ্রুতির
তারপরে রাত অন্ধকারে থেমে থাকাঃ—লুপ্তপ্রায় নীড়
সঠিক ক’রে নেয়ার মতো শান্ত কথা ভাবা;
যদিও গভীর রাতের তারা (মনে হয়) ঐশী শক্তির;
তবুও কোথাও এখন আর প্রতিভা আভা নেই;
অন্ধকারে কেবলি সময় হৃদয় দেশ ক্ষ’য়ে
যেতেছে দেখে নীলিমাকে অসীম ক’রে তুমি
বলতে যদি মেঘনা নদীর মতন অকূল হয়ে;

‘আমি তোমার মনের নারী শরীরিণী—জানি;
কেন তুমি স্তব্ধ হয়ে থাকো।
তুমি আছ ব’লে আমি কেবলই দূরে চলতে ভালোবাসি,
চিনি না কোনো সাঁকো।
যতটা দূর যেতেছি আমি সূর্যকরোজ্জ্বলতাময় প্রাণে
ততই তোমার সত্ত্বাধিকার ক্ষয়
পাচ্ছে ব’লে মনে কর? তুমি আমার প্রাণের মাঝে দ্বীপ,
কিন্তু সে-দ্বীপ মেঘনা নদী নয়।’-
এ-কথা যদি জলের মতো উৎসারণে তুমি
আমাকে—তাকে—যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে
ব’লে যেতে;—শুনে নিতাম, মহাপ্রাণের বৃক্ষ থেকে পাখি
শোনে যেমন আকাশ বাতাস রাতের তারকাকে।
আরও দেখুনঃ