যাত্রী কবিতা । জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

যাত্রী কবিতা টি জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতার অন্তর্গত। এটি কবি জীবনানন্দ দাশ সংকলিত স্বরচিত কবিতার একটি সংকলন যা কবির মৃত্যুর কয়েকমাস পূর্বে ১৯৫৪ সালের মে মাসে (বৈশাখ ১৩৬১ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সালে কবির মৃত্যুর পরবর্তী বৎসর ভারত সরকার কর্তৃক এই গ্রন্থটি শ্রেষ্ঠ বাংলা গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং জীবনানন্দ কে এই গ্রন্থের জন্য মরণোত্তর ‘সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জীবনানন্দই এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

 

যাত্রী কবিতা । জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

 

যাত্রী কবিতা

কবিতা: যাত্রী
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ

 

যাত্রী কবিতা । জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

 

মনে হয় প্রাণ এক দূর স্বচ্ছ সাগরের কূলে
জন্ম নিয়েছিল কবে;
পিছে মৃত্যুহীন জন্মহীন চিহ্নহীন
কুয়াশার যে-ইঙ্গিত ছিল-
সেই সব ধীরে-ধীরে ভুলে গিয়ে অন্য এক মানে
পেয়েছিল এখানে ভূমিষ্ঠ হ’য়ে- আলো জল আকাশের টানে;
কেন যেন কাকে ভালোবেসে।

মৃত্যু আর জীবনের কালো আর সাদা
হৃদয়ে জড়িয়ে নিয়ে যাত্রী মানুষ
এসেছে এ-পৃথিবীর দেশে;
কঙ্কাল অঙ্গার কালি- চারিদিকে রক্তের ভিতরে
অন্তহীন করুণ ইচ্ছার চিহ্ন দেখে
পথ চিনে এ-ধুলোয় নিজের জন্মের চিহ্ন চেনাতে এলাম;
কাকে তবু?
পৃথিবীকে? আকাশকে? আকাশে যে-সূর্য জ্বলে তাকে?
ধুলোর কণিকা অণুপরমাণু ছায়া বৃষ্টি জলকণিকাকে?
নগর বন্দর রাষ্ট্র জ্ঞান অজ্ঞানের পৃথিবীকে?

 

যাত্রী কবিতা । জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

 

যেই কুজ্ঝটিকা ছিল জন্মসৃষ্টির আগে, আর
যে-সব কুয়াশা রবে শেষে এক দিন
তার অন্ধকার আজ আলোর বলয়ে এসে পড়ে পলে-পলে;
নীলিমার দিকে মন যেতে চায় প্রেমে;
সনাতন কালো মহাসাগরের দিকে যেতে বলে।

তবু আলো পৃথিবীর দিকে
সূর্য রোজ সঙ্গে ক’রে আনে
যেই ঋতু যেই তিথি যে-জীবন যেই মৃত্যুরীতি
মহাইতিহাস এসে এখনও জানে নি যার মানে;

 

যাত্রী কবিতা । জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

 

সে-দিকে যেতেছে লোক গ্লানি প্রেম ক্ষয়
নিত্য পদচিহ্নের মতো সঙ্গে ক’রে;
নদী আর মানুষের ধাবমান ধূসর হৃদয়
রাত্রি পোহাল ভোরে- কাহিনীর কত শত ভোরে
নব সূর্য নব পাখি নব চিহ্ন নগরে নিবাসে;
নব-নব যাত্রীদের সাথে মিশে যায়
প্রাণলোকযাত্রীদের ভিড়;
হৃদয়ে চলার গতি গান আলো রয়েছে, অকূলে
মানুষের পটভূমি হয়তো-বা শাশ্বত যাত্রীর।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment