সুন্দরবনের গল্প কবিতা টি মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ । যা কবির মৃত্যুর অনেক বছর পর ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৩৮ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

সুন্দরবনের গল্প
কবিতা: সুন্দরবনের গল্প
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: মনবিহঙ্গম

ভোরের নদীর জলে হরিণ নামল
কাল সারা-রাত বাঘিনী ছিলো তার পিছু-পিছু
কাল সমস্ত জ্যোৎস্নার রাত সুন্দরী চিতাবাঘিনী
এই হরিণের ছায়ার পিছনে ছুটেছে
বাতাসের পায়ের মতো এর ছায়ার পিছনে
ছুটেছে কামনার মতো
গহন রূপের আঘাতে যে-রক্তিম কামনার জন্ম হয়
হিংসা নয়-
কাল রাতে চিতাবাঘিনী হরিণের মুখের রূপে
ফেনিল হ’য়ে উঠেছিল।
কাল চৈত্রের জ্যোৎস্নায়
রুপালি শিশির বেগুনি ছায়ার দেশে
জাফরিকাটা জানালার রাজ্যে
সবুজ জাফরান রঙের বাতাসের উষ্ণতায়
প্রান্তরে-প্রান্তরে চাঁদের আলোর কমলা বর্ণের মদিরার ভিতর
এরা দু’জনে অরণ্যের স্বপ্ন তৈরি করেছিলো কাল
এই হরিণ- এই চিতা-

জ্যোৎস্নার কোমল স্নায়ু এদের শরীরকে বানিয়েছিল ছবি
অপরূপ নারীর ছবি এঁকেছিলো এই বাঘিনীর দেহ দিয়ে
ছুটেছে হাওয়ার মতো তার (ঈপ্সিত) তরুণের পিছে
আঁকাবাকা ডালপালা এদের শরীরের উপর চেককাটা কার্পেট বুনে চলেছে
দ্রুত গতিতে
সবুজ পাতার অজস্র দেয়াল
জানালার মতো ফাঁক হ’য়ে যাচ্ছে
চৈত্রের বাতাসে
অন্ধকার সুড়ঙের মতো নীল হ’য়ে যাচ্ছে আবার
যেন মেহগিনির গহন ঘন ছায়ায়
হ’য়ে যাচ্ছে মেহগিনি কাঠের হরিণ
নীল দারুময়ী বাঘিনী
অন্ধকার রাত্রি ঘিরে
নিরাকুল সমুদ্রের মতো
পাহাড়ের গুহায় গুহায় আবেগে স্ফীত হ’য়ে উঠছে।

রুপালি চাঁদের আলোর ফোয়ারায়
হাওয়ার ফোয়ারায়
রাশি-রাশি কাঞ্চন ফুলের মতো ফুটে উঠছে এদের দেহ আর-এক বার
ছুটেছে ফিটকিরির ঝর্নার মতো;
নীল ছায়ার পর্দার ভিতর হারিয়ে গিয়ে
ছায়ার ভিতর থেকে হীরের মতো জ্যোৎস্নাকে খুঁড়ে বার ক’রে
অন্ধকারকে তম্বুরার মতো বাজিয়ে-বাজিয়ে
বাতাসকে তরমুজের মতো ছিঁড়ে-ছিঁড়ে
চাঁদকে একবার খুঁজে পেয়েছে এরা
এক বার হারিয়ে ফেলেছে।
আরও দেখুনঃ