সেই গল্পটা – পূর্ণেন্দু পত্রী

“সেই গল্পটা” কবি পূর্ণেন্দু পত্রী রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা। এটি মূলত প্রেমভিত্তিক কবিতা হিসেবে পরিচিত এবং আবৃত্তিকারদের মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত। বাংলা সাহিত্যের আবৃত্তি সংস্কৃতিতে এই কবিতার স্থান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ আবৃত্তিকার তাদের আবৃত্তির রেকর্ডে এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা পাঠক এবং শ্রোতাদের কাছে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিলো মেঘকে
আর মেঘ কি ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।

সেদিন ছিলো পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘকে বললে
– আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
– আজ তোমাকে স্নান করিয়ে দেবো চন্দন জলে।

ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
– ওঠ্ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে ।

এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।

Leave a Comment