১৯৪০ এর স্মৃতি । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

১৯৪০ এর স্মৃতি কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৪তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

১৯৪০ এর স্মৃতি । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

১৯৪০ এর স্মৃতি

কবিতা: ১৯৪০ এর স্মৃতি
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

১৯৪০ এর স্মৃতি । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

ঐখানে পর্বতের মতো এক মাটির ঢিবির পারে ধীরে
এক ফোঁটা আধ ফোঁটা রাত্রি লাগে সূর্যের শরীরে
সমস্ত নির্যাস ফিকে মুখ তুলে চেয়ে আছে আমাদের পানে
বিশ্বস্ততা হয়তো-বা আমাদের প্রাণে

সিংহর মুখের মতো একাকী একটি রং চুপে
বহু ক্ষণ ধ’রে প্রকাশিত হয়ে আছে মেঘ-রূপে
তবু তার মুখ ভেঙে বার হয় ঠাকরুণ, বানর, বিড়াল
অথবা ফাঁসির-দড়ি নিয়ে যেন কেউ কিছু কাল

প্রান্তরের পথে সঙ্গী আমিও নীরবে তার হৃদয়কে নিয়ে
মানুষ যতটা দূর যেতে পারে এসেছি এগিয়ে
তার পর কেউ নেই- কেউ নেই ব’লে প্রকৃতির বুকে নেই কোনও ক্ষোভ
কারু প্রাণে নেই এই কনে-দেখা বিকেলের লোভ

তবুও সকলে এই ছটকানো বিকেলের রঙের ভিতরে
মাটির ভিতরে কোনও লুপ্ত সোনা রয়ে গেছে অনুভব করে
হয়তো তা নারী, প্রেম, পরলোক,- মানুষের মন
ব্যতীত কোথাও আছে কী মনপবন

মনে হয় এ-রকম বিকেলের নিমীল বাতাসে
ঢের স্নেহময়ী ভূত মানুষের মুখ দেখে হাসে
বিড়ালের থাবার মতন যেন তাদের হৃদয়
এক-আধটা গাছের শীর্ষে জেগে রয়।

ফস্কা-গেরোর থেকে তবুও খোলে না কোনও ফাঁস
মানুষের কাছে এসে কখনও করে না তারা আত্মপ্রকাশ
একাকী ফাঁসির-দড়ি হাতে নিয়ে গোধূলির উঁচু গাছে ঝুলেছি যখন
ঝুলেছি এমন
তখন বুঝেছি তবু- কেউ নেই- মানুষের হৃদয়ের তরে
সূর্যাস্তের পানে চেয়ে মেঘের ভিতরে
শাশ্বত চিন্তার মতো এই স্বাভাবিকতাকে মনে পড়ে।

 

১৯৪০ এর স্মৃতি । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment