কোনও এক দার্শনিক কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

কোনও এক দার্শনিক
কবিতা: কোনও এক দার্শনিক
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কোনও এক দার্শনিক বলেছিল পৃথিবীর মানুষের প্রাণ
(অথবা জন্তুর প্রাণ) যাত্রীর মতন
এই জেনে পথ পেয়ে আমিও করেছি প্রাণপণ
পথ উতরায়ে গিয়ে কোনও এক অবহিত স্থান
অধিকার ক’রে নিতে- ব’লে গেল এক জন সামান্য ভোটার
মাথাগুনতিতে তারও রয়েছে ভোটের অধিকার।
তবু আমি বার-বার ভালো মনে ভোট দেই যাকে
অথবা তাহাকে শেষে ছেড়ে দিয়ে বীতশ্রদ্ধভাবে
যে-কেউ খুরের ‘পরে ভর দিয়ে ভোট নিতে যখন দাঁড়াবে
সহচর যাত্রী ভেবে আমাদের জীবনের স্মরণীয়তাকে
ছেড়ে দেই তার কাছে-
বাঘা তেঁতুলের সাথে মিশে থাকে তবু বুনো ওল
ব্রহ্মাণ্ডের মতো গোলাকার, সর্ষে-বীজের মতো গোল।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন ৷ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷