এখন আশ্চর্য দিন কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

এখন আশ্চর্য দিন
কবিতা: এখন আশ্চর্য দিন
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এখন আশ্চর্য দিন এই পৃথিবীতে
সোনার মতন সূর্য জেগে ওঠে ভোরে
এয়োরোড্রোমের থেকে উঁকি দেয় আসন্ন সরণ
হয়তো-বা হয়ে যেত সারস, স্বর্গীয় পাখি, এক
তবু সূর্য তাহাদের আলোক দেখায়
(অথবা লুকিয়ে রাখে মেঘকিনারায়)
সেইখানে শুক্ল স্বর্গ এক-দিন গড়েছিল লিওনার্দো, টিশিয়ান, প্যাসকাল, ক্রুশ
পতঞ্জলি- আধো-প্রীত হয়েছিল হয়তো-বা পুরাণপুরুষ
রাত্রিকে দিন ক’রে দিয়েছে যদিও এই পৃথিবীতে চাঁদনির চক
দিবসকে রাত ক’রে দিয়ে পুনরায়
স্বর্গের দশম দ্বার খুলে দিলে পুনরায় প্রথম নরক
দেখে যায় ভাঁড় শুধু, তার যথাস্থান সে-ও বদলাতে চায়
নিজের অজ্ঞাতসারে নিসর্গকে করুণার মতো ভেবে নিয়ে
কিংবা জ্ঞাতসারে
সকালে চাতক-পাখি উঠে যায় আকাশের দিকে
প্রচ্ছন্ন অগ্নির ঢেউয়ে তার দুই ধারে-
দুই-দশ টন বল উপরের আলোকের থেকে
নিচু পৃথিবীতে নেমে আসে
আচ্ছন্ন কৃষাণ তার মাঠের ইঁদুর, ঢিল, টুনটুনি-পাখি-ভরা খেতে
যত বেশি রৌদ্র ঢলে তার চেয়ে বেশি সোনা পেতে
ভোরের লাঙ্গল ধ’রে চেয়ে দেখে সময় অনন্ত জাল শুধুই বিবেকে
পৃথিবীর সূচনা ও সমাপ্তির সন্তপ্ত কৃষক
অথবা মানুষ তার মনীষীর হাত ধ’রে আকাশের মতো বড়ো ঘড়ির ছায়ায়
অকাতর দর্পণের মতো ঘোরে বিম্বিত গতির তাড়নায়।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷