নীলিমা ও পৃথিবীর মাঝখানে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৪তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

নীলিমা ও পৃথিবীর মাঝখানে
কবিতা: নীলিমা ও পৃথিবীর মাঝখানে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

নীলিমা ও পৃথিবীর মাঝখানে এক দিন আমি
তোমাকে দেখেছি এক অন্ধকার বিন্দুর মতন
ধানের বিবর্ণ খেতে হাওয়ার অমেয় বিচরণ
সহসা রৌদ্রের পারে নেমে এসে যেতেছিল থামি
দু’-চারটে ইতস্তত শালিখের শরীরকে ছুঁয়ে
বিম্ব পড়েছিল রোদে ঘাসের উপরে
সোনালি খড়ের মতো রঙ ছায়া অন্য এক শতাব্দীর তরে
এখন মানুষ শুধু ভেবে নিতে পারে ঘাড় নুয়ে
ধানের গুচ্ছের ‘পরে হাত রেখে আমি তার শরীরের ঢেউ
ছায়ার উপরে শীর্ণ হাত রেখে দিয়ে
অফুরন্ত রৌদ্রের তিমিরে হারিয়ে
একটি কোকিল ছাড়া- টের পাই- কেউ
নেই আর। সততই পাখি নিজ নামধেয় অন্ধকার বিহঙ্গকে খুঁজে
রোদের ও-পারে রোদে হয়েছে কোকিল
রোদের গভীর গুণে তবুও কোথাও এক তিল
রৌদ্র নেই ব’লে গান গুণময়; সকলই রয়েছে চোখ বুজে।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷