এক অন্ধকার থেকে এসে । জীবনানন্দ দাশ । মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৯

এক অন্ধকার থেকে এসে কবিতাটি মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ । যা কবির মৃত্যুর অনেক বছর পর ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের বহু আগে ১৯৫৪-এর ২২ অক্টোবর এক ট্র্যাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবনানন্দ লোকান্তরিত হয়েছিলেন। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৩৮ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

 

এক অন্ধকার থেকে এসে । জীবনানন্দ দাশ । মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৯

 

এক অন্ধকার থেকে এসে

কবিতা: এক অন্ধকার থেকে এসে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

এক অন্ধকার থেকে এসে । জীবনানন্দ দাশ । মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৯

 

এক অন্ধকার থেকে এসে
অন্য-এক আঁধারের দিকে
মুখ ফেরাবার আগে-
কয়েক মুহূর্ত কাজ কথা চিন্তা রয়েছে এ-জীবনের।
দেখেছি সূর্যের আলো, নিয়ন বাতির বিচ্ছুরণ,
অন্ধকার অজন্মা প্রান্তর, মৃত অর্ধমৃত নগর বন্দর,
শোকাবহ আলো শব্দ শেল,
ক্লান্তিহীন ক্রেন এরিয়েল,
(নীলিমায় এয়ারোপ্লেন হেলিকোপ্টারের
এঞ্জিনের
অনুরণনের
আর-এক রকম সুর:)

হেমন্তের মধ্যরাতে
দক্ষিণ সাগরগামী হরিয়াল বুনো হাঁসদের
রাশি-রাশি কালো বিদ্যুতের বিন্দু,
ডানার ঝাপসা গুঞ্জরণ
– দেখেছি জেনেছি অনেক দিন-
মানুষের সাথে
মিলন বা অমিলের কঠিন রহস্যসুতো নিয়ে
সময়ের অজ্ঞেয় সাগরতীরে গিয়ে
ধীরে-ধীরে হৃদয়ের ক্ষয়
দেখেছি মানবদের ইতিহাসে বার-বার হয়।

মনে হয় যেন মানুষের মন তবু কোথাকার
দুই কালো বালুতীর ভেদ ক’রে ফেলে
চলেছে নদীর মতো-
চারি-দিকে জনতার সকাতর কোলাহল-
ঘর বাড়ি সাঁকো।
পাখির ও মানুষের করুণ পায়ের চিহ্ন
পায়ের কৃচ্ছের চিহ্ন সব-
মুছে ফেলে বুঝি অনাদির সাদা-কালো
নির্দোষ আলো আর অন্ধকার আবার সঞ্চয় ক’রে মন
জ্ঞানপাপ মুছে ফেলে হ’তে চায় স্নিগ্ধ জ্ঞানবৃক্ষের মতন।

[কবিতা। পৌষ ১৩৬১]

 

এক অন্ধকার থেকে এসে । জীবনানন্দ দাশ । মনবিহঙ্গম কাব্যগ্রন্থ,১৯৭৯

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment