জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘বনলতা সেন’-এর অন্যতম রহস্যময় ও গভীর জীবনবোধের কবিতা ‘সুদর্শনা’। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি জীবনানন্দ দাশ-এর কাব্যজগৎ যেমন রূপময়, তেমনি বিষণ্নতায় ঘেরা। ১৯৪২ সালে প্রকাশিত তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক। এই কাব্যগ্রন্থেরই একটি অনন্য সংযোজন ‘সুদর্শনা’ কবিতাটি। কবি বুদ্ধদেব বসু তাঁর বিখ্যাত ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রথম এটি প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে পাঠকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।
জীবনানন্দের কবিতায় নারী চরিত্রগুলো কেবল রক্ত-মাংসের মানবী নয়, বরং তারা অনেক সময় ইতিহাস, প্রকৃতি এবং সময়ের এক জটিল মেলবন্ধন। ‘ঝরা পালক’ (১৯২৭) এবং ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬)-র পরে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থটিতে কবি তাঁর নিজস্ব কাব্যভাষাকে এক চূড়ান্ত গাম্ভীর্য ও দর্শনে পৌঁছে দিয়েছেন। ‘সুদর্শনা’ কবিতায় কবি সময়ের স্থিরতা আর বলয়ের মাঝে এক মহিলার অস্তিত্বকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। এখানে রোদের মতো পরিচিত শরীর আর মৃতদার সময়ের দান—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরাবাস্তব আবহ তৈরি হয়েছে। ২৯টি কবিতার এই সংকলনে ‘সুদর্শনা’ যেন সেই নক্ষত্র ও চন্দ্রমল্লিকার রাত্রির মতোই উজ্জ্বল অথচ বিষাদময়।
কবিতার মূল তথ্য একনজরে:
- কবিতার নাম: সুদর্শনা
- কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
- কাব্যগ্রন্থ: বনলতা সেন (১৯৪২)
- প্রথম প্রকাশ: কবিতা পত্রিকা (সম্পাদক: বুদ্ধদেব বসু)
- ক্রম: কবির প্রকাশিত তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ
সুদর্শনা কবিতা

কবিতা: সুদর্শনা কবিতা
কবির নাম: জীবনানন্দ- দাশ
কবি: জীবনানন্দ -দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম:বনলতা সেন

একদিন ম্লান হেসে আমি
তোমার মতন এক মহিলার কাছে
যুগের সঞ্চিত পণ্যে লীন হতে গিয়ে
অগ্নিপরিধির মাঝে সহসা দাঁড়িয়ে
শুনেছি কিন্নরকন্ঠ দেবদারু গাছে,
দেখেছ অমৃতসূর্য আছে।
সবচেয়ে আকাশ নক্ষত্র ঘাস চন্দ্রমল্লিকার রাত্রি ভালো;
তবুও সময় স্থির নয়,
আরেক গভীরতর শেষ রূপ চেয়ে
দেখেছে সে তোমার বলয়।
এই পৃথিবীর ভালো পরিচিত রোদের মতন
তোমার শরীর; তুমি দান করোনি তো;
সময় তোমাকে সব দান করে মৃতদার বলে
সুদর্শনা, তুমি আজ মৃত।
