সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে কবিতাটি আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থের রচিত। আলো পৃথিবী কবি জীবনানন্দ দাশ এর কাব্যগ্রন্থ। যা তার মৃত্যুর অনেক পর ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তার অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোগুলো নিয়ে যেসব কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় এটি তার মধ্যে অন্যতম। এতে মোট ৬২টি কবিতা রয়েছে।

 

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে

কবিতা: সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: আলো পৃথিবী

 

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে,
সময়ের হাত
সৌন্দর্যেরে করে না আঘাত।
মানুষের মনে
যে সৌন্দর্য জন্ম লয়- শুকনো পাতার মতো ঝরে না ক’ বনে,
ঝরে না ক’ বনে।
নক্ষত্রও মুছে যায়- মুছে যায়- পৃথিবীর পুরাতন পথ
শেষ হয়- কমলার ফুল, বন, বনের পর্বত;
মানুষের মনে
যে সৌন্দর্য জন্ম লয়- শুকনো পাতার মতো ঝরে না ক’ বনে,
ঝরে না ক’ বনে।

 

সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে । জীবনানন্দ দাশ । আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ,১৯৮১

 

জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷ বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ অন্যদিকে, অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন।

সমালোচকদের অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন। জীবনানন্দের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়৷ ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটি ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment