রাত্রিচর বিড়াল । জীবনানন্দ দাশ । ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ,২০০৪

রাত্রিচর বিড়াল কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর ছায়া আবছায়া কাব্য গ্রন্থের রচিত। যা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো ছায়া আবছায়া। এই গ্রন্থে মোট ৬১ টি সতন্ত্র কবিতা রয়েছে ।

 

রাত্রিচর বিড়াল । জীবনানন্দ দাশ । ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ,২০০৪

 

রাত্রিচর বিড়াল

কবিতা: রাত্রিচর বিড়াল
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: ছায়া আবছায়া

 

রাত্রিচর বিড়াল । জীবনানন্দ দাশ । ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ,২০০৪

 

চারি-দিকে ন্যূব্জ সব আত্মার ছবি
মাঝে-মাঝে দু’-চারটে ইন্দ্রপতন
জীবদের স্মরণ করায়ে দেয়
কেউ-কেউ করেছিল অস্পষ্ট অব্যয়ে আরোহণ।

তা ছাড়া ভূমার কোনও প্রতিভাস নাই
নরকেরও নাই কোনও স্পষ্ট প্রদর্শনী
কারণ, এখনও সব বিপর্যয়ে
রাত্রিচর বিড়ালের চক্ষের মণি

নশ্বর লাঞ্ছনের মতো মনস্বীর টেবিলের পাশে
বিচারকদের ধুম্র পরচুলা ঘিরে
অথবা ফুটন্ত জলে যে-সব ডিমের মৃত্যু
সেই অবচেতনার তীরে।

 

রাত্রিচর বিড়াল । জীবনানন্দ দাশ । ছায়া আবছায়া কাব্যগ্রন্থ,২০০৪

 

জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন।

তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫৪ সালে ভুমেন্দ্র গুহ তার ট্রাঙ্ক ভর্তি প্রায় ১৪টি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার সমাহার হাজার খানেক কবিতা সংগ্রহ করেন। এবং ১৯৯৪ সালে কবির কন্যা মঞ্জূষা দাশ থেকে এবং কবির ভাইপো অমিতানন্দ থেকে কবির লিখা বেশ কিছু পুরাতন খাতা সংগ্রহ করেন।

এগুলো থেকে ভুমেন্দ্র গুহ ১৯৯৪ সালের পর ধীরে ধীরে প্রায় ১৪টি পাণ্ডুলিপির খাতা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারনের কাছে স্বীকৃত।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment