এই ঘাস কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ২য় খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

এই ঘাস
কবিতা: এই ঘাস
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এই ঘাস- বিটপীর এই বুকে লুকায়ে রয়েছে কী-যে নিভৃত সান্ত্বনা
বেদনার দাগ নিয়ে যত বার মানুষের রক্তাক্ত হৃদয়
এইখানে চ’লে আসে- যেই রক্ত পৃথিবীর রূপ আর প্রেমে মুছিবে না
বটের ঘুঘুরা বলে, এইখানে সেই সব ব্যথা সাঙ্গ হয়
বটের ঘুঘুরা বলে, আমারও হৃদয় বলে, চ’লে এসো পৃথিবীর বনানির পাশে
রূপ শুধু ব্যথা দেয়- কলরব ব্যথা দেয়- উদ্যম উৎসাহ চেষ্টা পৃথিবীর ভিড়ে
বেদনায় সাঙ্গ হয়- রক্তে-রক্তে শেষ হয় বার-বার- এখানে আকাশে
অশ্বত্থের ডালপালা চেয়ে দেখো মিশে আছে জাফরান মেঘের শরীরে
সোনালি স্বর্গের দেশে,- যেন কোন মায়াময় জাদুকর গড়িয়াছে সিঁড়ি
অথবা এ জাদু নয়- মানুষের হৃদয়ের অবিরাম সচ্ছলতা আশা
জনতার রূঢ়তায় সোনার ধানের মত নিজের হৃদয় ছিঁড়ি-ছিঁড়ি
অবশেষে টের পায় অশ্বত্থ জামের শান্তি- গোধূলির স্পষ্ট ভালোবাসা

টের পায়- টের পায়- আঁকাবাঁকা শাখা সব সাদা রাঙা মেঘের শরীরে
চেয়ে দেখো মিশে যায়- অপরাহ্ণে রাঙা রোদে প্রতিটি ঝাউয়ের শাখা যেন
কুহকের জানালায় চ’লে যায়- কোনও দূর আকস্মিক সমুদ্রের তীরে
চকিত তোতার সাদা পালকের ভিড় ঘিরে দেখিয়াছি রূপ আমি হেন
এই ছবি দেখিয়াছি,- পৃথিবীর ক্ষুধা ব্যথা কোলাহল শেষ হয়ে গেলে
এই সব ছবি স্বপ্ন র’বে তবু- ঘাস, সন্ধ্যা, রাঙা মেঘ, আঁকাবাঁকা শাখার ইশারা
পৃথিবীর লোভে আর রৌদ্রে কেন ক্লান্ত হও?- অন্ধ হও উদ্যমের চিতাকাঠ জ্বেলে?
মানুষ কি জানিবে না আর কিছু কথা চেষ্টা কলরব পথ-হাঁটা অশ্রু রক্ত ছাড়া?