শিরীষফুল কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

শিরীষফুল কবিতা
কবিতা: শিরীষফুল কবিতা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

শিরীষফুল যেন নক্ষত্রের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করেছে নিজেকে
আর জামরুল?
জামরুলফুল?
বৃষ্টির ভিতরে রাতে- এই বার- এল ভিজে কে
এমন ঝড়ের রাতে মানুষের আশা করো
ডাক্তারের টাট্টু ঘোড়া
কেউটের কালো ডোরা
তার চেয়ে আবার চুরুট তুলে ধরো
শিরীষফুল যেন নক্ষত্রের গুঁড়ি দিয়ে…
এই সব ভাবো কেন শুধু
রাত্রি কী যে ধু-ধু
বিশ বছর আগে আমার হয়েছিল বিয়ে
আজ রাতে সেই নারীটি সাথে যদি থাকত
গর্ভস্রাবে কত যুগ আছে টসকে গেল
আরও টাট্টা নরকের দিকে তারে ঠেলো
এমন আশ্চর্য রাতে দরজায় এসে যদি ডাকত
কে ডাকত?- কেউ নয়, প্রেতিনী নিশ্চয়
নয়; কেউ নয়;
প্রেতিনী নিশ্চয়
নয়,- চুরুট বরং কেউ, আর কেউ, কেউ- কেউ নয়।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷