বহুপ্রসবিনী জননীর প্রাণে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৭ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

বহুপ্রসবিনী জননীর প্রাণে
কবিতা: বহুপ্রসবিনী জননীর প্রাণে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

দেখ এক বহুপ্রসবিনী জননীর প্রাণে
শুক্র তারকার গন্ধ হেমন্তের-
নীড়মুখি চিল নেমে এল
হলুদ পাতার সাথে বিড়ালছানারা বাহিরে খেলিছে বুঝি?
তবু তার শিশুদের- সারা দিবসের- (দীর্ঘ দিবসের)
জলপ্রপাতের মতো উন্মত্ত শরীরগুলো
ক্রমে-ক্রমে পাথরের মতো হয়ে যায়
নামের ভিতরে নামে- ধীরে-ধীরে মাথা হেঁট ক’রে
জননী ডাকিছে তাহাদের- তবু কোনও সংবেদন নাই
প্রদীপ লুফিয়া গেছে বহু ক্ষণ- তবে কি সে
নিরম্বু পাহাড়- বধির- আকর্ণ- স্তব্ধ-
যেন এক শ্লথ সিংহী মরুভূর বালির ভিতরে
জানুভগ্ন কালো শিলা হয়ে গেল
জঙ্ঘা আর নড়ে না ক’- দুই চোখ তবু
আধেক জীবন- আধাে-প্রস্তরের মোহানায় থেমে
ঢের উঁচু- ঢের দূর ধূম্র প্রাসাদের
অন্ধকার লৌহ ফলকের দিকে চেয়ে
একটি অনন্ত রাত্রি আবার কাটাবে নিষ্পলক।
(শিশুদের মৃত্যুর মুখোমুখি: এক প্রবর নারীর সম্বিৎ)

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷