মনে ভেবে গেছে সব কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১০ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

মনে ভেবে গেছে সব
কবিতা: মনে ভেবে গেছে সব
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

মনে ভেবে গেছে সব: অনেক আশ্চর্য শান্তি রেখে গেছে
তাদের শিয়রে ছিল রাত্রিবেলা হেমন্তের চাঁদ
দিনের প্রখর রৌদ্রে তাহাদের হাতে
সূর্যের রশ্মি ছিল
সুশৃঙ্খল বুনুনির মতো যদি মনে ক’রে নেয় তারে
মনে ক’রে নিতে পারে অনন্ত অদূরবর্তী শুক্রাচার্য
প্রভাত ও বিকেলের মনস্বী নক্ষত্র
তাই তারা সূর্যসাগরতীরে বালির মতন
সোনালি বিস্তার গ’ড়ে চ’লে গেছে
ভুল ক’রে, বধ ক’রে, প্রতিভার প্রকম্পনে, প্রেমে
সেইখানে পিরামিডগুলো
প্রতিধ্বনিকে ফের ধ্বনিতে ফিরায়ে দেবে ব’লে
(ধ্বনিতে ফিরায়ে দেয় তবে। আহা)
মধ্যন্দিন আগুনের নিচে পূর্ণ বৃত্তের আকারে
যারা নাচে- পরিধির শুরু আর সীমানারে খুঁজে
যাহাদের হৃদয়ের নিস্পাপ কামনা কালো করোটির মতো উঁচু উঠে
উঠে যায় মাথার উপর দিয়ে রসাতলে;
মানুষের চামড়ার নিচে যারা বানরের মতন কঙ্কাল
যাদের দন্তিল হাসি ওষ্ঠহীন
অদ্ভুত গলিত ব্যাধি যাহাদের শরীরকে হাসাতেছে শিশুর মতন
(অভিশাপহীন, শিশু; সত্তার সমগ্র অন্ধকার;)
প্রখর আমোদে তারা সরীসৃপ-রৌদ্রের মতো রোলে ঘুরে
চেয়ে দেখে চারি-দিকে অথর্ব ব্যাপ্তির মতো স্থির,- পিরামিড
সোনালি সৌন্দর্য দেখে বালিদের- যত দূর চোখ যায়
অখল, অনন্ত সব সমুদ্রের তিতির-ধূসর নিস্তব্ধতা।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷