আজকে আমরা আলোচনা করবো রিকশাওয়ালা কবিতা নিয়ে। কবিতা টি লিখেছেন অরুণ মিত্র।
অরুণ মিত্র
১৯০৯ সালের ২ নভেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যশোর শহরে কবি অরুণ মিত্র জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম হীরালাল মিত্র ও মায়ের নাম যামিনীবালা দেবী। অল্পবয়সেই অরুণ মিত্র কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতার বঙ্গবাসী স্কুলে তার শিক্ষাজীবনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯২৬ সালে এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

রিকশাওয়ালা কবিতা | অরুণ মিত্র

রিকশার চাকা দুটো ঘুরতে-ঘুরতে এইখানটাতে এসে দাঁড়ায় |
আমার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করে
যে-লোকটা চালায় একদিনও তার কামাই নেই,
এই বিষম ঠাণ্ডাতেও না |
এমনিতে তাকে দেখে আমার চেনবার কথা নয়,
কারণ তার মুখটা রোজই বদলায় |
চাকাদুটো ঘোরা থেকে চিনি।
সন্ধের পর ছেলে-বউকে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে।
কোন্ মহল্লা থেকে তা আমার কাছে পরিষ্কার নয় |
শুধু এইটুকু বুঝতে পারি,
ভুতুড়ে আলোগুলো পার হয়ে গেলে একটা যে-প্রকাণ্ড শীতের রাত পড়ে,
তার ওপারে সে থাকে |
যেথানেই থাকুক কিছু আসে যায় না |
আমার বাড়িটা যে তার চেনা, আমাদের দুজনের পক্ষে এটাই বড় কথা |
শাতের ঢেউ যে-সব রাস্তায় আছড়ে পড়ে সেই সব রাস্তা দিয়ে রিকশা চড়ে
আমি অনেকবার গিয়েছি |
তখন মানুষটার মধ্যে আগুন গনগন করতে দেখেছি,
যেন তার অস্থিমজ্জা জ্বলছে |
আমার গায়ে সেই আঁচ এসে লেগেছে।
তার সুতির ফতুয়াটা যখন তীব্রভাবে উড়তে থাকে
আমার ভয় হয় আমার গরম জামাকাপড় বুঝি দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে |
কিন্তু না, প্রত্যেকবারই সে ভুতুড়ে আলোগুলোর ভিকর দিয়ে
আমাকে আবার এখানে ঠিকমতো পৌঁছে দিয়েছে।
এমন কি, তার বাড়িটা যে একসময় খুব কাছাকাছি এসে গিয়েছিল,
এ অনুভূতিটাও আর লেশমাত্র থাকেনি |
আজও সে আমাকে নিয়ে শীতের রাতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং
নিরাপদে আবার ফিরিয়ে আনবে।
খুব সম্ভব কোনো একদিন সে আর আসতে পারবে না ।
ভেতরের আগুনটা নিভে গিয়ে সে ঠাণ্ডায়
জমে পাথর হয়ে কোথাও পড়ে থাকবে |
কিন্তু তা বলে রিকশার চাকা দুটো তো মাটিতে গেড়ে যাবে না |
তারা আবার ঘুরবে এবং
তাই থেকে আমি বুঝব সেই রিকশাওয়ালা হাজির হয়েছে.
এখন যেমন বুঝি | এটাই আমার কাছে স্বস্তি |

আরও দেখুন:
২ thoughts on “রিকশাওয়ালা কবিতা | অরুণ মিত্র”