এখন বনের থেকে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১২তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

এখন বনের থেকে
কবিতা: এখন বনের থেকে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এখন বনের থেকে উঠে এসো তুমি
ফিরে এসো শহরের পথে
এইখানে অগণন মল্লিকার বন
গ্যাসল্যাম্প হয়ে দাঁড়ায়েছে জনমতে
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা
মাথার উপরে এই বিদ্যুতের তার
কেঁপে ওঠে পৌরুষেযর মতো মতান্তরে
পড়েছে গভীর বৃষ্টি সেই বনে
এখনও রুপালি বৃষ্টি ঝরে
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা
এখানে উজ্জ্বল ক্রমে হয়ে ওঠে ট্রামের শরীর
কেবলই পালিশ লাগে- মানুষের গায়ে
তবুও বাতাবি-ফুল এক চুল ভ্রান্তির বিপদে
আপনাকে অরণ্যেই রেখেছে লুকায়ে
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা
সেই মেধাবী এই শহরের পরিবেশ
আমি প্রত্যাখ্যান করি গণিকা, গাড়ল, ডাস্টবিন
নয়টি বিড়াল-জন্ম নিয়ে আমি নয় বার মরেছি ব’লে রায়
এখনও জানায় শনি, অধ্যাপক, দালাল, হাকিম
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা
বেবিলন থেকে আজও হেঁটে চলি প্রকাণ্ড শূন্যের
ঘোড়ার নালের মতো উপবৃত্তাকার রেখা দেখে
সর্বদাই রাজমিস্ত্রি চ’লে যায় শেষের আস্তর
গম্বুজ ও নক্ষত্রের তরে ফেলে রেখে
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা
ঘড়ির চাঁচর শব্দে চ’লে এসো তুমি নগরীতে
এইখানে মানুষেরা সময়ের সততাকে মানে
কী ফসল হবে তাতে বনানীর বিষণ্ন বিদ্যুৎ
চ’লে আসে যদি ঠিক নাগরিক নগরীর টানে।
লা-লা লি-লি লি-লি লা
সুরুমিলা সুমিলা

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷