মৃণালিনী সেন । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

মৃণালিনী সেন কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১২তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

মৃণালিনী সেন । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

মৃণালিনী সেন

কবিতা: মৃণালিনী সেন
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

মৃণালিনী সেন । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

মৃণালিনী সেন আজ হয়ে আছে নির্জন পাথর
কোনও এক নির্ঝরিণী থেকে নামা নদীর ভিতরে
সকালে মুনিয়া-পাখি জল খেয়ে যায়
আকাশে অমল কালো রঙ হয়ে ঝরে
সকালের কাকগুলো অশ্বত্থে’র ভিজে শাখা থেকে
আড়কোলা হয়ে উড়ে অনড় বাতাসে
রৌদ্রকে স্থির হতে ব’লে দিয়ে ক্রমে
কোথায় মিলায় অনায়াসে

তিনটি বিলোল গাধা চ’লে আসে রোজ
গাছের ছায়ার ডোরা গায়ে মেখে দুপুরের রোদে
খেলা ক’রে যায় কানা ঘোটকী’র সাথে
অনর্গল মোক্ষম আমোদে
কোথাও বধির ধোপা তাহাদের ছেড়ে দিয়েছিল
দেউলিয়া গাড়োয়ান পিপুলের তলে
এখন সমস্ত দিন মৃত হয়ে আছে
এই সব গাধা ঘোড়া কাক তাই বলে:

মানুষের মৃত্যু হয়ে গেছে ঢের দিন
জামরুল-রঙি নদী নেচে- হেসে যায়
সূর্যের ভিতর থেকে যত দিন বুড়ো
চাঁদের ভিতরে স্নিগ্ধ বুড়িকে ঘুরায়।

 

মৃণালিনী সেন । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।

মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷

 

Leave a Comment