অবনী পালিতের মৃত্যু কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১১তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

অবনী পালিতের মৃত্যু
কবিতা: অবনী পালিতের মৃত্যু
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

ভূমধ্যসাগর-পারে কবে-যে সে গিয়েছিল- কোনও এক বৈশাখের ভোরে
ইটালির কিছু কম গরিমার স্বচ্ছল জাহাজে চ’ড়ে খালাসির বেশে
বন্ধুরা জানে নি কেউ- গুহার ভিতর থেকে গ্যানেট যখন নিরুদ্দেশে
উড়ে যায়- সবার বিম্বিত চোখে নিজেকে সে সে-রকম ক’রে
উড়ায়ে অনেক দূর নিয়ে গেল ভেবেছিল হয়তো-বা- তবু তাকে দেখে নি ক’ কেউ
দেখিতে চায় নি কেউ- হাঁড়ির ভিতরে মুখ দিতে গিয়ে বিড়ালের চোখে ঘুম আসে
তার কথা মনে হলে- অতএব বোম্বাইয়ের শূন্য টার্মিনাসে
পিছনে সে রেখে গেল প্রকাণ্ড জিরো’র মতো ঢেউ
বিশ্রী এক চিত্রকর- স্কুলহীন- নিষ্প্রাণ গল্পিক অনর্গল
জাহাজের দুলুনিতে যখন চতুর্দিকে নক্ষত্রের নীলাভ সিলিঙ্
কেঁপেছিল- চুলের ভিতরে তার জেগেছিল ছাগলের শিঙ
দু’ কাঁধে দুইটি ডানা যখন সে চেয়েছিল সারসের মতন নির্মল
কোনও এক কেবিনের নিটোল বাঁটুলিকাটা পাথরের মতো মুখ দেখে
খালাসির রসাতলে সারা-রাত আকস্মিক ভূতের মতন
অবিশ্বাস করেছিল নিজের এমন নিচে নিরয়ে গমন

অগণন লস্করেরা এ-রকম হিরন্ময় আগুনের প্রবাহের থেকে
কী ক’রে প্রসূত হয় নরকের শূকরের মতো কালিমায়
এ-সব সে ভেবেছিল এক দিন… ভূমধ্যসাগর-পারে আজ এই ভোরের আলোকে
সে-সব সে ভুলেছিল… তবুও একটি ছবি এঁকে দিতে গিয়ে তার চোখে
সহসা অঞ্জনি এল… এবং তিনটি মাছি নাকের ডাঁশায়
থলের-খাবারে মৃত বাবুর্চির আবির্ভাব- সাগরের সক্রিয় বাতাসে
রিরংসাকে সাদা বিড়ালের মতো মনে হল কাঁধের ও-পারে
অনেক পুরুষ, নারী, কুকুর ও রৌদ্রের জয়জয়াকারে
পাললিক মৃত্তিকার মতো
শিল্পীকে ম’রে যেতে দেখে খুনে-খুন হয়ে হাসে
চিত্রকর ম’রে যায় দেখে খুনে-খুন হয়ে হাসে।