আজ এই ভোরবেলা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

আজ এই ভোরবেলা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৪তম খণ্ডে রচিত। যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

আজ এই ভোরবেলা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

আজ এই ভোরবেলা

কবিতা: আজ এই ভোরবেলা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

আজ এই ভোরবেলা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

আজ এই ভোরবেলা মৃত আর আধো-মৃত দেশের ভিতরে
মাঠের ঘাসের ‘পরে শরীরের ছায়া ফেলে রেখে
মনে পড়ে কারা-কারা নেই আজ কাছে
নিসর্গ অনেক গুণে জ্ঞানময় হয়ে তবু এমন নীরব
অতীব নীরব এত- ভোরের পবিত্র রৌদ্রে ব’সে
মনে হয় সেই সব বিলুপ্ত জীবন
অজ্ঞান লোষ্ট্রের মতো- এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
তবু তারা যত দিন বেঁচেছিল- ভেবে দেখে নিলে
পৃথিবীকে মনে হত প্রভাতের হ্রদের মতন
আমিও দেখেছি সব অনুভব ক’রে

হ্রদের জলের মধ্য-পথ থেকে সর্বদাই তিন ধনু দূরে
যত দূর জল যায় মানুষের সাবলীল চোখ
যেতে চায়- তবুও চোখের দৃষ্টি ছেড়ে দিয়ে জল
চ’লে গেছে;- সাত জন শ্বেতকায় নারী-পুরুষের মতো হাঁস
জলকে সূর্যের কাছে- আরও কাছে- নিয়ে গেছে ব’লে
(সুদূরে সূর্যের কাছে অশরীরী হয়ে গেছে ব’লে)
সেই হ্রদ সূর্যের ভিতরে গিয়ে মিশে যায়- সেই সব পাখি
অদৃশ্য জলের মাইল ছেড়ে দিয়ে এক-আধ বার
ক্বচিৎ গুগলি খেতে নেমে এসে শামুকের মতন মলিন

হ্রদের অপর অংশে (ভয়াবহ ভাবে সাদা মেঘের মতন
সাদা নমুনার মতো দেখা দিলে পিছনে আকাশ
নমুনার মতো নীল- একে-একে ঢের দার্শনিক)
আঁধার রাত্রির মোম নিভে গেলে ভোরের বাতাসে
নীরবে আকৃষ্ট হয়ে দেখে গেছে- তার পর অন্ধকার হলে
টেবিলের ‘পরে মোম জ্বালায়েছে- প্রকাণ্ড সূর্যের
কোলের উপরে কালো সৌরকলঙ্কের দৃষ্ট প্রতিভায়
এই সব দার্শনিকের তৃপ্তি।
কোথায় তবুও সেই রাজহংসী, হাঁস?

 

আজ এই ভোরবেলা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০১২

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment