এই যুবক কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৫ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

এই যুবক
কবিতা: এই যুবক
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এই যুবক হেগেল’ও পড়েছিল
অনেক দিন এম.এ. পাশ ক’রে ব’সে থেকে কোনও চাকরি পায় নি;
তাই পুরোনো বইয়ের দোকানে হেগেল বিক্রি করতে এসেছে
নইলে পাইস-হোটেলে খাওয়া আর চলে না!
সমস্তটা সময় যুবকের মনে হচ্ছিল, প্লেটো বলেছিলেন- প্লেটো বলেছিলেন
যেন ট্রামগুলো এসপ্লানেডের দিকে ছুটতে-ছুটতে মাথায় রক্ত ঘনিয়ে আনে
অন্ধকার চোখে দপ-দপ করতে থাকে।
প্লেটো বলেছিলেন
একটা নতুন বইয়ের দোকান থেকে ভিড়ের গোলমালের মধ্যে
অ্যাপলিজ চুরি ক’রে এনেছিল সে;
পাইস-হোটেলের জন্য নয়,- একটু-আধটু রাত কাটাবার জন্য
সেই প্লেটোকেও আজ পুরানো বইয়ের দোকানে বিক্রি করতে হল
মানুষের শরীর তার আত্মাকে যেন কারাগারের মধ্যে আটকে রাখে
প্লেটো বলেছিলেন
কিন্তু প্লেটো কোনও উপায় দেখান নি কেন?
উপনিষদ কোনও উপায় দেখান নি কেন?
বড়লোকের লাইব্রেরি ছাড়া- ক্যাপিটালিস্ট বইয়ের দোকান ছাড়া
তাঁরাও কি শুন্য শুষ্ক ইঁদুরের-গর্তে নামবেন না কোনও দিন
একটু-আধটু দিন একটু-আধটু রাত কাটাবার জন্য শিশি-বোতল-বিক্রির
কাছ থেকে এক সের বেবিলনের কাগজ।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷