একটি নারীকে আজ মনে পড়ে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

একটি নারীকে আজ মনে পড়ে
কবিতা: একটি নারীকে আজ মনে পড়ে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

একটি নারীকে আজ মনে পড়ে সকলের আগে
পৃথিবীর বিবাহিত রমণীর বার
যদিও সে চির-দিন সিঁথিতে সিঁদুর ছুঁয়ে গেছে
ঘুরায়ে-ঘুরায়ে খুন্তি চালায়ে নিয়েছে চমৎকার
তবুও সে এক দিন পাকা চুল হাতে পেয়ে- তবে
মাথায় একটি সরু পাকা চুল দেখে
রেখে দিল টেবিলের ‘পরে তার আরশি নীরবে
ঘোমটার আপামর কালো মাথা ঢেকে
খুন্তি ঘুরায়ে গেল- নুনের উপর দিয়ে বিশদ গভীর ভাবে জাঁতা
ঘুরায়ে-ঘুরায়ে নিয়ে বাস্তবিক সাদা ক’রে দিয়ে গেল মাথা
তবুও সে পৃথিবীতে বহু দিন বেঁচে আছে আজও;
কোনও-কোনও মানুষের হৃদয়ের কাছে।
নার্সারি পাউডার নেড়ে বোধ হয়
নিকটেই জাঁতা চেয়ে আছে।
অথবা দোবাড়া চিনি অঢেল চায়ের কাপে ঢেলে মনে হয়
এইখানে আছে কিছু ভুল।
সেই নারীটির সাথে যদি হত পরিচয়
তা হলে এ-সব চিনি এ-রকম স্থূল
তা হলে এ-সব চিনি এ-রকম স্থূল হয়ে আঁদাড়ে সেলুনে
উতরায়ে যেত কবে টী-সেস কমিটি আর হৃদয়ের গুণে।

তাই সে এখনও বেঁচে রয়ে গেছে, আহা,
যদিও এ-পৃথিবীর থেকে তার আয়ুর সময়
কাক, চিল- নগরীর চিলগুলো মিলে
বহু দিন আগে চুরি কররে গেছে- মনে হয়
তবুও যতটা দিন মানুষের খুদের টেবিলে
পিঁপড়ের আসা-যাওয়া র’বে
অথবা অনেক হেসে মানুষের পিলে
বাছুরের মতো গুরুগম্ভীর হবে
ঘুরাবে- ঘুরাবে জাঁতা তত দিন- সে ও তার ব্রহ্মাণ্ডের আলো
যাবৎ না কালো চুল সাদা হয়ে পুনরায় হয়ে যায় কালো।