পালিয়ে যেতে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৫ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

পালিয়ে যেতে
কবিতা: পালিয়ে যেতে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

না, পালিয়ে যেতে হবে না
বরং পেটে যাতে বাতাস না জমে
শরীরটা যাতে বেতো টাট্টু না হয়ে যায়
নাল ক্ষ’য়ে গেছে- নতুন নাল লাগাও
লক্ষ-লক্ষ দানব তোমার মুখের দিকে দাঁত কড়মড় ক’রে তাকিয়ে আছে
তোমাকেও দানব হয়ে দানবের ভিড়ে মিশে যেতে হবে?
ঠান্ডা রক্তের পানসে মদ খেয়ে জীবনটাকে চল্লিশের-ষাটের কোঠায় উতরে দিতে হবে?
কোনও দিন যে ধর্মঘট করে নি, সে-ও তা পারে।
একটা আবগারি বিভাগের কেরানিও তো তা পারে, কিংবা তার হুজুর;
তারা লক্ষ-লক্ষ- তাদের হুজুরেরা আরও কোটি-কোটি
কত শত চাঁই দেখলাম- চাঁট দেখলাম- জীবন না পালিয়ে জীবন কাবার ক’রে দিল
কিন্তু তোমাকে পাখির রং ও কণ্ঠের গান দিয়ে কেউ যদি ধু-ধু জলের ভিতর ছুঁড়ে ফেলে দেয়
অথচ তুমি হাঙরে রূপান্তরিত না হও
ছুঁড়ে ফেলে সরকারি বাজেট, খিদিরপুর এলেকা, অধ্যাপক, দপ্তরি,
পুরোহিত ও পানওয়ালিদের সাধু সঙ্কল্পের ভিতর
অথচ তুমি যদি মুলোর খেত না হয়ে যাও
তা হলে পেটে যাতে বাতাস না জমে
শরীরটা যাতে বেতো টাট্টু না হয়ে যায়
জীবনের গভীর আনন্দে বেঁচে থাক, কবি।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷