পাহাড়ের পথে আমি কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

পাহাড়ের পথে আমি
কবিতা: পাহাড়ের পথে আমি
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কোনও দিন পাহাড়ের পথে আমি বিশুষ্ক বাতাস-
মাথার সমস্ত টেরি ছেড়ে দিয়ে-
শরীরে লাগাতে গিয়ে কান পেতে শুনে গেছি জল-
দু’ চোখ বুজায়ে ফেলে- দূর থেকে শব্দ ক’রে যায়।
আমি তার পিছে গিয়ে (অনায়াস অপলকে)
অন্বেষণ ক’রে নিতে বাধা পাই- এমন নির্দিষ্ট সম্ভ্রম
জলের সংস্পর্শে এসে- দূর থেকে- মানুষের হৃদয়ের।
কোনও এক দূরতর- উচ্চতর- ডালের ভিতর থেকে পেঁচা
বালকের হাত থেকে সমুৎক্ষিপ্ত চিলের মতন
সহসা বিরল শব্দ ক’রে চুপে নিভে গিয়ে কোটরের থেকে
নির্জন জলের শব্দ শুনে যায়- বিকেলের ছায়ার ভিতরে
তাহার নীরব পাখা হামাগুড়ি দিয়ে নেমে জল আর গোধূলির রং।
নির্ঝরের ফেনা থেকে এক দিন জন্মেছিল পাখি।
অথবা সে মৃত আজ- জলের ভিতর থেকে হেঁয়ালির মতো
উঠে এসে আমাকে একাকী পেয়ে ঘড়িহীন সময়ের পথে
যা হয়েছে- যা হতেছে- অথবা যা হবে
সকল ঘোষণা ক’রে আবার স্তিমিত হয়ে যায়
কোনও এক মৌন জীব- মৌনতাকে যারা
অবহেলা ক’রে যায় নগরীর গোল গণিকার
বার থেকে নানাবিধ সমুজ্জ্বল, সক্রিয় শপথ
ধূমায় আরতি ক’রে- অথবা নিজের গুণে মহীয়ান জরথুস্ট্র, শনি
রিবেনট্রপ- দেবযানী- চ্যাং- সব নাম

অদ্ভুত অন্যায় ভাবে- অজানিতে- আওড়ায়ে পাহাড়ের পথে
আধ-ঘণ্টা-টাক আমি চুপ থেকে মৃত পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ নির্ঘণ্টের কথা ভাবি- সকলেই তারা
নদীর ভিতর থেকে এসেছিল- জলচূন্নির মতো উঠে
অইখানে নির্ঝরের অনুধাবনার পথে আজ
কথা কয়- সকল প্রেমিক সব গণিকারা মিলে।