মোমের আলোয় চিন্তা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

মোমের আলোয় চিন্তা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

মোমের আলোয় চিন্তা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

মোমের আলোয় চিন্তা

কবিতা: মোমের আলোয় চিন্তা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

মোমের আলোয় চিন্তা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

স্থির হেমন্তের রাতে বহু ক্ষণ চিত্তকে অধিকার ক’রে রাখে ভ্রম
স্মরণীয় দীর্ঘ দিন ভ’রে আমি বিচরণ করি নি কি বাইজেনটিয়ম
তক্ষশীলা- বুদ্ধগয়া- অক্সফোর্ড- আলেকজেন্ড্রিয়া’র
উপরে দেখেছি আমি ধীরে-ধীরে নামিতেছে কল্কি’র আঁধার
মক্ষিকার নীড় থেকে চুরি ক’রে তবে কেন এনেছি এ-রাত্রির মোম

যাদের হৃদয়ে জ্ঞান নাই আজও পৃথিবীতে- মানুষের মতো
মৌচাক বানাতে গিয়ে তাহাদের জ্যামিতিক গায়কি অন্তত
প্রাণের ইশারা দিলে দিতে পারে;- আবিষ্ট তৌলের মতো নয়
এই কথা ভেবে আমি সমস্ত প্রভাতবেলা থাকি নিঃসংশয়
যেন শিশুসন্তানের সাথে এক স্মিত পিতৃব্যের চুক্তি ছিল প্রথমত

তার পর রাত্রি আসে। পশ্চিম-সূর্যের শেষ পেনাম্ব্রা’র বিভা
দিনের রৌদ্রের আদি অনাত্মীয়- আর-এক প্রতিভা।
মনে হয় একটি সুদীর্ঘ দিন ভ’রে ছিল যেই সমাহৃতি
নিজের প্রতিভা নিয়ে সূর্য আর মানুষের অনিবার বিশেষ প্রতীতি
অন্ধকারে পৃথিবীকে স্পর্শ ক’রে বোঝা যায় সমস্তই বিলুপ্ত নিনেভে

যেই গন্ধ বাতাসে রাখিয়া যায় বৃষ্টির ফোঁটা
ধুলোকণা থেকে উঠে মহাপৃথিবীর মতো মোটা
(হতে পারে) ঝাড়ু পেলে- তক্ষশীলা, বুদ্ধগয়া, অক্সফোর্ড, আলেকজেড্রিয়া’র
উপরে গোধূম যদি নেমে আসে- প্রিয়তর মেষদের- তবু এই রাত্রির মোম
প্রবীণ আনন্দ এক: মেধা তিথি প্রয়োগের নাই অসংযম।

 

মোমের আলোয় চিন্তা । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment