সোমেশ্বর মুস্তফি । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

সোমেশ্বর মুস্তফি কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১১তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

জীবনানন্দ দাশ

 

সোমেশ্বর মুস্তফি

কবিতা: সোমেশ্বর মুস্তফি
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

জীবনানন্দ দাশ

 

সিন্ধুর ধবল তীরে একা ব’সে করমণ্ডলের দীর্ঘ দুপুরবেলায়
খাবার-থলের থেকে রুটি, টক, ডিম, ঝাল বার ক’রে নিয়ে
শূন্যে সব ফিকে ফেলে দিয়ে গেল বালুকার উপরে দাঁড়িয়ে
মনে হল যেন এক সিন্ধুকাক এ-সব খাবার খেতে চায়
পৃথিবীর পরিধির মতো গোল চোখের বিরহে নষ্ট হয়ে

অথচ সেখানে কোনও সিন্ধুকাক ছিল না ক’- যত দূর ট্যুরিস্টের চোখ
চ’লে যায়- সোমেশ্বর মুস্তফির প্রাণে তবু প্রতীকের মতো ডানা, বিষণ্ন পালক
নেমে এল- সূর্যের শরীরে কালো সানস্পট-বিম্ব রেখে দিয়ে
নীলাভ গগলস্-আঁটা কোনও এক ওয়েলস্-মহিলা
সমুদ্রের পারে এই যুবককে চিমনির মতো কালো মেশায়ার মতো
একাকী দাঁড়াতে দেখে- ভেসে এল বড়ো রৌদ্রে স্থির রবাহূত
প্লোভার পাখির হর্ষে- তাহার চারটি ছেলে এক টন ডিম, কেক, মার্মালেডে

অজগর-লীলা
বালিতে চালাতেছিল- ঠেলাগাড়ি, আয়া-বেয়ারার ভিড়, দড়ি, তার্পুলিন
মলয়ালি জাদুকর, তাম্বুল-রঙের জিল্লি- ভবঘুরে- শিখ ঔপনিবেশিক
গোয়ানিজ বাবুর্চিরা- টোমাটোর মতো লাল গালের মালিক
অসংখ্য পুরুষ-নারী দেখা দিল- খোসাছেঁড়া পেঁয়াজের মতন রঙিন
তাদের হৃদয় সব সাদা সমুদ্রের কূলে জ্যৈষ্ঠের আলোকে
মক্ষিকার মতো যেন গুঞ্জরণ সর্বদাই- কোথাও নতুন সম্ভাবনা
এখুনি সাধিত হবে ব’লে তারা ক্যাম্পে শুয়ে ব’সে ছুটে ধনাত্মক বিদ্যুতের কণা
কেবলই ছুঁড়িতে আছে মুস্তফির কালো গোল অন্ধকার পরিতৃপ্ত চোখে।

 

জীবনানন্দ দাশ ছবি

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

Leave a Comment