হৃদয়ের গরিমা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১১তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

হৃদয়ের গরিমা
কবিতা: হৃদয়ের গরিমা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কী নিয়ে বিষয় করা পৃথিবীতে?
মানুষের হৃদয়ের গরিমা কোথায়?
এই সব কথা ভেবে হেমন্তের দিন
এখুনি ফুরাবে কুয়াশায়।
আমার শৈশব দেখে পিতৃব্যের মনে হয়েছিল
এ-মানুষ গেয়ে যাবে কৃকলাস-আগুনের গান
তবুও যৌবন এল ঢেঁকির মতন
অন্ধ গহ্বরের তরে কুটে গেল ধান
ফিতেকাটা পথ ছেড়ে আকাশের নিচে
সমূহ সময় নিয়ে চলেছি মালিক
রাত একটায় দ্বারে হাতল ঘুরাতে
অক্ষি তবুও তার প্রিয় শারীরিক
রূপ ধ’রে নেমে আসে সম্রাটের মুণ্ডে মুদ্রায়
মুণ্ডের দক্ষিণ কানে এ-সব জটিল তর্ক ছেড়ে দিয়ে তবু
চায়ের ভিতরে এক পেয়ালার দেখা পাওয়া গেল
কোনও এক অবিকল ব্রহ্মাণ্ডের মানে
কলমকে তরবার মনে ক’রে নিয়ে
হৃদয়কে রোবো ভেবে- সমাজকে সঙ্গীতের স্কুলে
মনস্বিনী টের পেয়ে- টেবিলের ডিশ’এ নাশপাতি
প্রত্যাগমন করি পুনরায় অরণ্যের নাশপাতি ফুলে।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷