আমার তবুও মনে হয়েছিল কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

আমার তবুও মনে হয়েছিল
কবিতা: আমার তবুও মনে হয়েছিল
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

আমার তবুও মনে হয়েছিল ১৯২০ থেকে ১৯৫০ অন্তত
যারা সব মানবিক বেদনার বোধ নিয়ে বই লেখে
হয়তো-বা শেক্সপিয়রের মতো প্রাণের আবেগে
হয়তো-বা সমীচীন উপচিকীর্ষার জোরে পাঁচটি ইন্দ্রিয় নিয়ে জেগে
তাদের নতুন মডেল যেন জনসাধারণ ঢের সহজেই করিবে সঞ্চয়
দশটা সিলিং আর ছয় পেন্স হেঁকে তারা বাড়াতে যাবে না আর তাহাদের
জলমাকড়ের মতো দ্রুত অগ্রগমনের জের-
বয়ঃসন্ধিসীমার ওজন
তবু সেই ধূসর- ধূসর অভিমানে আজও ভ’রে আছে লেখরাজ আচার্যর মন
তাদের বিকীর্ণ বই- কবিতার- কথা ভেবে কেন মোরা হৃদয় ঘামাই
সব-চেয়ে ভালো কথা- সব-চেয়ে আগে আজও টের পাবে
অ্যাটর্নির নতুন জামাই।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷