আর একটা রবিবার । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

আর একটা রবিবার কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

আর একটা রবিবার । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

আর একটা রবিবার

কবিতা: আর একটা রবিবার
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

আর একটা রবিবার । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

আর-একটা রবিবার
সূর্য যেন ঢের
উঁচু-উঁচু কথা- পরোপকারের
বোঝা নিয়ে এল
হরেকৃষ্ণ মিশনের বক্তার মতন
ঢের নামজাদা- লম্বা- মননপ্রধান- তবুও খানিকটা স্থূল
সহজে উদ্ৰিক্ত হয়- মেরুদণ্ড কাঁটা দেয়- কী একটা আটপৌরে ইস্কুল
গড়ন করেছে যেন দর্শনের- সাহিত্যের- কিংবা সুনীতির
চুলচেরা ঘুমের বিতর্কটাকে নষ্ট ক’রে দেবে ব’লে সেই সব
কেটলি-হাতে বালখিল্য ভিড়
বহু ক্ষণ থেকে পাঠাতেছে
নাও- নাও- এত স্বেচ্ছায় তুমি নিভে গেলে অন্ধকার
আবার হপ্তা-পরে শনিবার- রাত দশটার মতো অন্ধকারে
গেলে চলে, রবিবার বেলা বারোটারে
গলায় ঝুলায়ে দিয়ে
চারি-দিকে ইলিশমাছের ঘ্রাণ
কী-যেন-কী খুন হয়ে গেছে: এই স্তব্ধ জনরব যেন
পৃথিবীর ব্যাস জুড়ে গাহিতেছে গান-

বেলা তিনটায় কোনও লাভ হল না ক’
খবরের ডিপো থেকে সমস্ত কাগজগুলো বিবাহ-বাড়িতে
শ্রাদ্ধ খেয়ে গড়াতেছে- সারা-ঘরে- বিছানায়- চেয়ারে- টেবিলে-
নাটক লিখিবে ব’লে এসেছিল- তবু মূলতই ঢিলে
ঢিলে সব
চারি-দিকে শূন্য বালটিগুলো প’ড়ে আছে- এক ফোঁটা নেই তাতে জল
হঠাৎ গুবরেপোকা সেখানে আছাড় খায়- টং ক’রে শব্দ হয়
কে এক বিপন্ন বিড়াল যেন: বেলা পাঁচটার- কেঁপে ওঠে ব্রহ্মরন্ধ্রময়
খানিকটা মিষ্টি সাবান গুলে চৌবাচ্চার জল এত অন্ধকার মনে হয়
সেইখানে সাপগুলো কিলবিল ক’রে বলে: এই বার আমাদের পালা জন্মেজয়।

 

আর একটা রবিবার । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

Leave a Comment