রাতের বাতাস আসে । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

রাতের বাতাস আসে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

রাতের বাতাস আসে । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

রাতের বাতাস আসে

কবিতা: রাতের বাতাস আসে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

রাতের বাতাস আসে । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

রাতের বাতাস আসে- হাড়গিলা’র কলরবের মতো
আমি জানালা বন্ধ ক’রে বিদায় দেই তাকে
বাতি জ্বালি; (প্রদীপের) সেই আলোয় আবছা দেয়ালের জন্ম হয়
সে নাক-মুখ-চোখ নারী হয়ে ওঠে
ধুলো ঝেড়ে বই নিয়ে বসি
এই বইয়ের ভিতরেই তুমি হেয়ারপিন রেখেছিলে
মরচে প’ড়ে গেছে
এক দিন- মনে আছে- এই হেয়ারপিনটাকে সারা-দিন খুঁজেছিলে তুমি
কিন্তু কোথাও পাও নি
আজ এই বিবর্ণ পিন: বিবর্ণ পিন;
এই বিবর্ণ পিন: তুমি…
তুমি আমি এই পিন: সমস্তই এই বিবর্ণ পিন’এর ভিতর।
আমি?-
তুমি গেছ, আমি চ’লে যাচ্ছি।

পিন’টা বইয়ের ভেতর থাক: তুমি আমি ও বই এই পিন’এর মতো
পৃথিবীর মনে অনেক দিন বিচিত্র হয়ে বেঁচে থাকুক।

সৃষ্টির চার-দিকে দেবতারা রয়েছে
মাঝে-মাঝে তাদের নীলাভ গুঞ্জন শোনা যায়
এই সব পিন বিচিত্র হয়ে বেঁচে থাকে।

 

রাতের বাতাস আসে । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।

মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷

 

Leave a Comment